আজ || বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনাম :
  ডিজেল–পেট্রোল সংকটে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি বিপর্যয় পোকার দখলে আম বাগান, সেচ বন্ধে দিশেহারা কৃষক       সুন্দরবনের জলদস্যুদের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের অভিযান        শ্যামনগরে বিশ্ব পানি দিবস উদযাপন       সীমান্ত সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা জোরদারে বিজিবি–সাংবাদিক মতবিনিময় সভা       শিয়ালদহ রেলস্টেশনে বিজয় ৭১ প্রতিনিধিদলের সংবর্ধনা       কোডেক এর উদ্যোগে শ্যামনগরের মানুষ পেল বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ঔষধ       সরকারি নির্দেশনায় শৃঙ্খলিত তেল সরবরাহ: শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে প্রশাসনের কার্যক্রম প্রশংসিত       গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরামের গঠন সভা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন       কাশিমাড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদ পরিকল্পনা প্রণয়নে উন্মুক্ত স্টেকহোল্ডার সভা অনুষ্ঠিত       শ্যামনগরে জলবায়ু সংকট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন, উপকূল মন্ত্রণালয়সহ ৯ দফা দাবি    
 


ডিজেল–পেট্রোল সংকটে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি বিপর্যয় পোকার দখলে আম বাগান, সেচ বন্ধে দিশেহারা কৃষক

মেহেদী হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় তীব্র জ্বালানি সংকটে কৃষি ও পরিবহন খাত মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ডিজেলের পাশাপাশি পেট্রোলেরও ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সেচযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং কীটনাশক স্প্রে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে ধানক্ষেতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে আম বাগানে ভয়াবহ পোকার আক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জ্বালানি সংগ্রহে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ট্রাক ও সেচযন্ত্রের মালিকদের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকেই প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। পাম্প কর্তৃপক্ষ সরবরাহ সংকটের কথা জানালেও অভিযোগ রয়েছে, পাম্পের আশপাশেই গড়ে উঠেছে অবৈধ বাজার, যেখানে বেশি দামে ড্রামে করে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দিয়ে জ্বালানি কিনছেন। কৃষকদের অভিযোগ, পাম্পে তেল না থাকলেও দালালের মাধ্যমে সহজেই বেশি দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বর্তমানে বোরো মৌসুম চলমান থাকায় সেচের জন্য ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি। কিন্তু জ্বালানি সংকটে অনেক এলাকায় সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জমি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে এবং ধানের চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে। এদিকে দেশের অন্যতম আম উৎপাদনকারী এই জেলায় আম বাগানেও সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। হপারসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণে গাছগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ প্রয়োজন হলেও ডিজেল সংকটে স্প্রে মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাগানগুলো ধীরে ধীরে পোকার দখলে চলে যাচ্ছে স্থানীয়দের অভিযোগ, পাম্প মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা থাকলেও একই তেল কালোবাজারে সহজলভ্য হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এদিকে পেট্রোল সংকটে পরিবহন খাতেও প্রভাব পড়েছে। মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চলাচল কমে গেছে এবং ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছেন। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, বরাদ্দ কম থাকায় নির্দিষ্ট পরিমাণে সীমিতভাবে তেল বিতরণ করতে হচ্ছে। তারা দাবি করেন, সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষক ও সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, সিন্ডিকেট দমন এবং ন্যায্যমূল্যে তেল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।


Top